থাইল্যান্ড ভ্রমণের সেরা সময়

আপনি কি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম সুন্দর এবং মনোমুগ্ধকর দেশ থাইল্যান্ডে ভ্রমণের প্ল্যান করছেন? তাহলে আপনার জানা উচিত, সারা বছর ধরে থাইল্যান্ডের আবহাওয়া কেমন থাকে। এটি জানা থাকলে, আপনি সহজেই ভ্রমণের প্ল্যান করতে পারবেন এবং খারাপ আবহাওয়ার জন্যও প্রস্তুতি নিতে পারবেন।
থাইল্যান্ডের প্রতিটি কোনায় কোনায় আছে তার নিজস্ব সৌন্দর্য। আলো ঝলমলে শহর, প্রাচীন মন্দির থেকে শুরু করে সমুদ্র সৈকত কিংবা দ্বীপপুঞ্জ আর পাহাড়ি গ্রাম সবকিছুই একসাথে উপভোগ করার জন্য আপনাকে জানতে হবে ঘোরাঘুরির সঠিক সময়।
থাইল্যান্ডে সারা বছর জুড়েই চলে ঋতুর পরিবর্তন। গরমকাল, বর্ষাকাল আর শীতকাল প্রতিটি ঋতুই সেজে ওঠে নিজের আলাদা আলাদা রঙে। এই যেন তিনটি ভিন্ন রঙের ক্যানভাসে প্রকৃতি আঁকে তার নিজস্ব ছবি। গরমের দিনে সমুদ্র ঝলমল করে রোদের আলোয়, বর্ষায় পাহাড়-জঙ্গল মেতে ওঠে সবুজে, আর শীতকালে আকাশ হয়ে উঠে নীল, বাতাস হয় ফুরফুরে ও মনোরম। তাই থাইল্যান্ডে কখন যাবেন তা নির্ভর করে আপনি কোন রূপের প্রকৃতিকে বেশি ভালোবাসেন।
আজ আমরা তুলে ধরবো থাইল্যান্ড ভ্রমণের সেরা সময় ও কখন কোথায় যাবেন, কী করবেন ইত্যাদি তথ্যসহ ভ্রমণের টিপস।
গরম কাল (মার্চ-মে)

থাইল্যান্ডের গরমকাল বছরের সবচেয়ে উষ্ণ সময়। গরমকাল সাধারণত মার্চ থেকে মে মাসের শেষ অথবা জুন মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এ সময় দিনের তাপমাত্রা গড়ে ৩০° থেকে ৪০°C-এর মধ্যে থাকে। সূর্যের তেজ বেশি হলেও, আকাশ সাধারণত পরিষ্কার থাকে এবং বৃষ্টিপাত খুবই কম হয়। এই কারণে যারা সমুদ্রতীরে আরাম করে বসে ঢেউয়ের শব্দ শুনতে ভালোবাসেন, কিংবা সমুদ্রে সুইমিং করে রোদ পোহাতে চান, তারা চাইলে গরম মৌসুমে থাইল্যান্ড ঘুরে আসতে পারেন।
ব্যাংকক, চিয়াং মাই বা আয়ুথায়ার মতো শহরগুলোতে এই সময়ের গরম কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তবে উপকূলীয় অঞ্চলগুলো যেমন ফুকেট, ক্রাবি, কোহ লান্তা, কোহ সামুই ইত্যাদি তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা ও আরামদায়ক, কারণ সমুদ্রের হাওয়া তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে দেয়।
গরমকালে যা যা উপভোগ করতে পারবেন:
থাইল্যান্ডের গরম মৌসুম সমুদ্রপ্রেমী ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ সময়। এই মৌসুমে আপনি দ্বীপ হপিং করে এক দ্বীপ থেকে আরেক দ্বীপে ঘুরে বেড়াতে পারেন এবং নীল সমুদ্রের স্বচ্ছ জলে সাঁতার কাটতে পারেন।এই সময় ফি ফি আইল্যান্ড, সিমিলান আইল্যান্ড, জেমস বন্ড আইল্যান্ডে সহজে যাতায়াত করা যায় সাথে স্নরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং, কায়াকিং এর মত অ্যাডভেঞ্চার উপভোগ করা যায়। যারা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করেন, তারা পাহাড়ি পথে হাইকিং কিংবা খাও সক এর মত ন্যাশনাল পার্কে ভ্রমণের সুযোগও নিতে পারেন। আর এপ্রিল মাস হলে মিস করবেন না সংক্রান উৎসব । থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী এই ওয়াটার ফেস্টিভ্যাল স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকরা মিলে মেতে ওঠে রঙিন জল খেলায়, যা আপনার ভ্রমণকে নিঃসন্দেহে আরও স্মরণীয় করে তুলবে।
গরমকালে ভ্রমণকারীর জন্য প্যাকিং টিপস:
গরমে শরীর ঠান্ডা ও স্বস্তিদায়ক রাখতে হালকা ও বাতাস চলাচল করতে পারে এমন পোশাক বেছে নিন, যেমন সুতি বা লিনেনের জামা-কাপড়। সূর্যের তীব্রতা থেকে চোখ ও ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে অবশ্যই সানগ্লাস ও ভালো মানের সানস্ক্রিন সঙ্গে রাখুন। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে মাথা রোদের হাত থেকে বাঁচাতে প্রশস্ত টুপি বা ক্যাপ খুবই কার্যকর। এছাড়াও, গরম মৌসুমে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম হলেও কখনও কখনও হঠাৎ স্বল্পমেয়াদী বৃষ্টি হতে পারে, তাই একটি হালকা রেইনকোট ব্যাগে রাখা ভালো এটি আপনাকে ভিজে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে এবং আপনার ভ্রমণের আনন্দ বজায় থাকবে।
বর্ষা কাল (জুন-অক্টোবর)

থাইল্যান্ডের বর্ষা মৌসুম শুরু হয় জুন মাসে এবং চলতে থাকে অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়টাতে প্রকৃতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। পাহাড়ে-জঙ্গলে নেমে আসে সবুজের ছোঁয়া, নদী ও জলপ্রপাত হয়ে ওঠে আরও সবুজ । তবে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে বিশেষ করে দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে প্রবল বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই মৌসুমে সমুদ্রযাত্রা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও শহুরে ভ্রমণ আর প্রকৃতির বুকে শান্ত সময় কাটানোর জন্য পারফেক্ট।
বর্ষাকালে যা যা উপভোগ করতে পারবেন:
বর্ষা মৌসুমে আপনি ব্যাংককের বিভিন্ন মিউজিয়াম ও ইনডোর আকর্ষণ ঘুরে দেখতে পারেন, যা আপনাকে ডিফারেন্ট কালচারাল এক্সপেরিয়েন্স দেবে। কেনাকাটার শৌখিন হলে এম বি কে (MBK) সেন্টার বা সিয়াম প্যারাগনের মতো শপিং মলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে পারবেন। আর যদি মন চায় বিশ্রাম, তবে থাই স্পা বা মেডিটেশন ট্রাই করতে পারেন।
ভ্রমণকারীর জন্য প্যাকিং টিপস:
বর্ষায় ভ্রমণের সময় সঙ্গে রাখুন হালকা ও আরামদায়ক পোশাক, দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন জুতো, একটি হালকা রেইনকোট, মজবুত ছাতা এবং একটি পানির বোতল। এতে করে বৃষ্টি হলেও আপনার ভ্রমণের আনন্দ নষ্ট হবে না।
শীত কাল (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি)

থাইল্যান্ড ভ্রমণের জন্য বছরের সেরা সময় হলো নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। যখন আবহাওয়া সবচেয়ে মনোরম, আর্দ্রতা থাকে কম এবং তাপমাত্রা হয় আরামদায়ক। তাপমাত্রা সাধারণত ২৫°–৩২°C এর মধ্যে থাকে। এই সময়ে শহর, পাহাড়, দ্বীপ সব জায়গায় ঘোরাঘুরি করা যায় স্বাচ্ছন্দ্যে এবং দিনগুলো হয় রৌদ্রোজ্জ্বল আর ফুরফুরে বাতাস থাকে। ফলে উৎসবমুখর পরিবেশে থাইল্যান্ড যেন ভ্রমণপিপাসুদের কাছে স্বর্গে পরিণত হয়।
শীতকালে যা যা উপভোগ করতে পারবেন:
শীতকাল থাইল্যান্ড ভ্রমণকারীদের জন্য পারফেক্ট সময়। এই সময় ভ্রমণকারীরা নানা রকম এক্সপেরিয়েন্স উপভোগ করতে পারেন। আপনি চাইলে নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত চিয়াং মাই-এর ল্যান্টার্ন ফেস্টিভ্যাল (Yi Peng) দেখতে যেতে পারেন, যেখানে রাতের আকাশ হাজার হাজার ফানুসের আলোয় ঝলমল করে। ব্যাংককের স্ট্রিট ফুড ও নাইট মার্কেটে ঘোরাঘুরি ও সাথে খাওয়া-দাওয়া আছেই। শীতকাল পাহাড় ট্রেকিং করার জন্য পারফেক্ট সময়। এছাড়াও ফুকেট, ক্রাবি বা কোহ সামুইর মতো দ্বীপপুঞ্জে সমুদ্রের জলে সাঁতার কাটা, কায়াকিং বা স্কুবা ডাইভিং করতে পারেন।
ভ্রমণকারীর জন্য প্যাকিং টিপস:
শীতকালে থাইল্যান্ড ভ্রমণের জন্য প্যাকিং সাধারণত সহজ ও হালকা রাখাই ভালো। দিনের বেলা হালকা টি-শার্ট, শর্টস সঙ্গে নেওয়া যেতে পারে। শহর, বাজার বা পাহাড়ি পথ ঘুরে দেখার জন্য আরামদায়ক হাঁটার জুতো অপরিহার্য অথবা স্যান্ডেলও ব্যবহার করা যেতে পারে। রাতে বা ভোরবেলা বাতাস একটু ঠান্ডা হতে পারে, তাই হালকা জ্যাকেট বা সোয়েটার সঙ্গে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। দিনেরবেলা রোদ থাকে তাই চোখ ও ত্বক রক্ষার জন্য সানগ্লাস এবং সানস্ক্রিন ক্রিমও সঙ্গে রাখা উচিত। এছাড়া হাঁটার সময় হাইড্রেটেড থাকার জন্য একটি ওয়াটার বোতল সঙ্গে রাখা সুবিধাজনক।
থাইল্যান্ড ভ্রমণের সেরা সময়: নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি
থাইল্যান্ড ভ্রমণের সেরা সময় হলো নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। এই সময়ের আবহাওয়ায় আর্দ্রতা কম থাকে তাই শহর, পাহাড় কিংবা দ্বীপ সবকিছুর ভ্রমণই আরামদায়ক হয়। তাই থাইল্যান্ডের ভ্রমণ পরিকল্পনা করার সময় ঋতু, আবহাওয়া এবং আপনার পছন্দের কার্যকলাপগুলো বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময় বেছে নিলে আপনি পুরো দেশটি ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন এবং আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা হবে স্মরণীয়।
আজই আপনার থাইল্যান্ড ভ্রমণের পরিকল্পনা করুন Firsttrip-এর সাথে।
firsttrip.com থেকে সহজেই আপনার ফ্লাইট টিকেট বা হলিডে প্যাকেজ বুক করতে পারেন। বুকিং-এর সঙ্গে পাবেন বিশেষ অফার এবং ২৪/৭ ডেডিকেটেড কাস্টমার সাপোর্ট, যা আপনার ভ্রমণকে করে তুলবে স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং ঝামেলামুক্ত।